Home / লাইফ / সঠিক চাষাবাদে অধিক ফলন

সঠিক চাষাবাদে অধিক ফলন

স্বাদে-গুণে অনন্য জিবে জল আনা ফল জলপাই। আজ এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো টক-জাতীয় ফল জলপাই। একে জয়তুনও বলা হয়। আদি বাসস্থান ছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। পরে এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এ ফলটি। আমাদের কাছে জলপাই মুখরোচক একটি ফল। কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় ফলটি খাওয়া যায়। আচার, চাটনি, জ্যাম, জেলি প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার হয়। দেশের আবহাওয়া জলপাই চাষের উপযোগী। তাই এর চাষাবাদ সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন

জাত

জলপাইয়ের দুটি জাত রয়েছেÑএকটি আরবীয় জলপাই বা জয়তুন, যা আরব অঞ্চলে ভালো জন্মে। এ জাতটি তেল তৈরিতে বেশি ব্যবহার হয়। দ্বিতীয়টি ভারতীয় জাত, যা সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয়। আচার ও চাটনি তৈরিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে ভারতীয় জাতটাই ভালো জন্মে।

জমি নির্বাচন ও তৈরি

জলপাই চাষের জন্য প্রথমে জমি নির্বাচন করতে হবে। বন্যার পানি দাঁড়ায় নাÑএমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি বাছাই করে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ভালোভাবে চাষ দিতে হবে। জমি ছাড়াও এর চারা বাড়ির উঠোন কিংবা ফেলে রাখা স্থানে রোপণ করেও আবাদ করা যায়।

রোপণের সময়

মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পানি সেচের সুব্যবস্থা থাকলে সারা বছরই রোপণ করা যেতে পারে।

রোপণের নিয়ম

রোপণের অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে গর্ত করে উম্মুক্ত অবস্থায় রাখতে হবে। গর্ত হতে হবে ২৩ী২৩ ফুট দূরত্বে, ৩ী৩ ফুট আকারের। গর্ত করার পর পরিমাণমতো পচা গোবর, টিএসপি সার, পটাশ, জিপসাম ও দস্তা সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্তে দিয়ে বন্ধ করতে হবে। মাটিতে রসের ঘাটতি থাকলে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। গর্ত ভর্তির ১০ থেকে ১৫ দিন পর চারা গর্তের ঠিক মাঝখানে রোপণ করা উচিত। রোপণের সময় চারার গোড়া যাতে ঠিক খাড়া থাকে ও কোনোভাবে আঘাত না পায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। চারা রোপণের পর পানি দিতে হবে। পাশাপাশি

খুঁটি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর দুদিন অন্তর পানি দিতে হবে।

রোগবালাই ও প্রতিকার

যে কোনো ফসল রোগাক্রান্ত হওয়াসহ পোকার আক্রমণের শিকার হতে পারে। জলপাইও নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পোকার আক্রমণও দেখা দিতে পারে। এর রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন